• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তরুণের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন স্বজনরা, বিএনপি নেতা কর্মীদের বেধড়ক পিটনিতে তৌফিকের মৃত্যু হয় বিক্ষোভে বাতিল শ্রমমন্ত্রীর বিদেশ সফর, মন্ত্রীদের ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা তত্বাবধায়ক কে হবেন তা জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অপরাধী শিক্ষকদের বাঁচাতে সত্য আড়াল করলে মাদ্রাসার চূড়ান্ত ক্ষতি হবে: শায়খ আহমাদুল্লাহ টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ক্রিপ্টো লেনদেনে ১৩তম স্থানে বাংলাদেশ ভারতকে শেখ হাসিনার ধন্যবাদ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি: দেশের প্রায় ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত

আজ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস।। দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ

দৈনিক বিজয় একাত্তর রিপোর্ট ★ / ৫৯ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে বসবাস করছে বাংলাদেশের প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ মানুষ। অর্থনৈতিক সংকট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো যেকোনো ধাক্কায় তাদের আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এরই মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর দারিদ্র্য ও সমতা পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক শ্লথগতি, দুর্বল শ্রমবাজার ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। সংস্থাটির প্রাক্কলন বলছে, গত অর্থবছরে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে যুক্ত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ শনিবার আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস। এ বছরের বিশেষ প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য নিরাপদ আবাসস্থল’। বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য থেকে মানুষকে বের করে আনার পাশাপাশি তাদের অর্জিত জীবনমান ধরে রাখা এবং সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জাতীয় উচ্চতর দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী দেশে দারিদ্র্যের হার ৩৭.১ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৭ শতাংশে নেমে আসে।

একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ১২.২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ৫.৬ শতাংশে। এ সময়ে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসে। তবে ২০১৬ সালের পর দারিদ্র্য কমার গতি মন্থর হয়ে পড়ে।
সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪ শতাংশ। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭ শতাংশ।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বলেন, আয় সীমিত অথচ নিত্যপণ্যের দাম বেশি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সংসারের ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত হিসাব করতে হয়। একপর্যায়ে খাবার, চিকিৎসা কিংবা শিক্ষার খরচ কমাতে বাধ্য হয় তারা। বিশেষ করে পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে কম দামের শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভরতা বাড়লে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনও দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও লবণাক্ততায় ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা হারিয়ে অনেক পরিবার নতুন করে সংকটে পড়ছে। নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি এসব এলাকায় সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য কমাতে টেকসই কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করা জরুরি। অসুস্থতা, কর্মহীনতা কিংবা দুর্যোগের সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো গেলে দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর আবার দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd