সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াত নেতা ও মসজিদের ইমাম হুমায়ুন আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। জামিন শুনানির সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ তাকে বিশ্বম্ভরপুর জোনের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এমদাদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা হুমায়ুন আহমেদ (৩০) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে।
জামায়াত নেতা ও মসজিদের ইমাম হুমায়ুন আহমদের জামিন না মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের জেনারেল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (জিআরও) এএসআই ফরিদ আহমেদ। জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষে কোনও আইনজীবী অংশগ্রহণ করেননি বলে জানান তিনি।
এ ধরনের সংবাদ পেয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা জামায়াতের পক্ষে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ও মসজিদের ইমামকে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করেন এবং এই সকল কর্যক্রমের দায়ভার নিবেনা বলে জানিয়েছেন দলের উপজেলা আমির।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামায়াত নেতা হুমায়ুন আহমেদ উপজেলার একটি জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ওই সময় এলাকার একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে ছুরির ভয় দেখান। পরে আরও কয়েকবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত তা অস্বীকার করেন এবং ভয়ভীতি দেখান।
এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই ভুক্তভোগীর বাবা সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্বম্ভরপুর থানাকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘবের বাজার এলাকা থেকে জামায়াত নেতা হুমায়ুন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্যদিকে, গ্রেফতার জামায়াত নেতা ও মসজিদ ইমামের স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তার মুক্তি দাবি করেছেন।