শেয়ার এবং ফলো করুন…….. ………
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় রয়েছে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ইরানের সাথে যে কোনো চুক্তি যেন গ্রহণযোগ্য হয়। আর, ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিশ্চিত করেছেন, আলোচনাগুলো একটি সম্ভাব্য কাঠামোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখনও চরম উত্তপ্ত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভে সহিংস দমনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বারবার সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, স্থল বা জলপথে যে কোনো হামলার দ্রুত ও কঠোর জবাব দেয়া হবে।
ইরান বর্তমানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তাজা গোলাবারুদসহ দুই দিনব্যাপী নৌ-মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার সংকীর্ণতম অংশটি মাত্র ৩৩ কিমি প্রশস্ত। তেহরান এর আগেও হুমকি দিয়েছে, আক্রান্ত হলে তারা এই প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে দেবে। এর জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ওয়াশিংটনও।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সতর্ক করে বলেছে যেন তারা মার্কিন বাহিনীর কাছাকাছি কোনো বেপরোয়া বা অনিরাপদ আচরণ না করে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ মোতায়েন করেছে এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আরব সাগরে এর কার্যক্রমের বিষয় নিশ্চিত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন অবস্থানের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ডে তাদের বাহিনী কীভাবে মহড়া দেবে, তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে।
শনিবার ইরানে দুটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে একটি বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হন। কর্তৃপক্ষ একে গ্যাস লিক বলে অভিহিত করেছে এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বলা হচ্ছে রেভল্যুশনারি গার্ডের এক জ্যেষ্ঠ নৌ-কমান্ডারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমের আহভাজে আরেকটি বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত হন। ‘তেহরান টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মকর্তারা সেখানেও গ্যাস লিককেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে তিনি তেহরানকে দুটি শর্ত দিয়েছেন; পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় ৬,৩০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আরও হাজার হাজার মৃত্যুর তদন্ত চলছে। এদিকে নরওয়ে-ভিত্তিক ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ গ্রুপ সতর্ক করেছে, নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা বিবিসি-কে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত সহিংসতা ছিল তাদের অভিজ্ঞতায় নজিরবিহীন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ, রেভল্যুশনারি গার্ড এবং ব্যাংক ও মসজিদের মতো সরকারি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, খামেনি বলেছেন তাদের ভাষায় একটি ‘অভ্যুত্থান’ প্রচেষ্টা পরাজিত হয়েছে।