শেয়ার করুন………………..
টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক জিল্লুর রহমান বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির বাতাসে হঠাৎ করেই এক পুরনো, চেনা অথচ অপব্যক্ত বাস্তবতা হানা দিয়েছে। ছাত্রশিবির থেকে উঠে আসা কিছু তরুণ কিভাবে ছাত্রলীগের মধ্যে ঢুকে ছাত্রলীগের চেয়েও বেশি ছাত্রলীগ নামে নিপীড়ন চালিয়েছেন। আবার আজ ফিরে গেছেন তাদের আসল পরিচয়ে।
সম্প্রতি ‘মন্তব্য’ নামক এক ফেসবুক পেজে দেওয়া ভিডিওর রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আবদুল কাদেরের সাম্প্রতিক একটি ফেসবুক পোস্ট বেশ আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ফেসবুকে পোস্টটি যেন এই দ্বৈত চরিত্রের শিবির এবং জামায়াতের মুখোশ খুলে দিয়েছে তার এই পোস্ট কেবল একটা ব্যক্তির নাম বলেই থেমে যায়নি। বরং একটা গোটা সংস্কৃতির গুপ্তপ্রবণতার কথায় যেন উন্মোচন করেছেন।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমগুলোতে। হলগুলোতে গেস্টরুম কালচার মারধরের রাজনীতিতে মিছিলের নামে জোর জবরদস্তি আর গায়ের জোর দেখানোর অশোভন একটা প্রতিযোগিতা। অথচ এসব কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনেকের নিজের রাজনৈতিক আদর্শিক শিকড় ভিন্ন খাতে গাঁথা। ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করা ছেলেরা যখন ছাত্রলীগে এসে পড়ে।
তখন তারা পরিচয় রক্ষা করতে গিয়ে চরম উগ্রতা, অর্থাৎ তারা যে ছাত্রলীগ, সেটা বোঝানোর জন্য অতিরিক্ত তোষামোদ আর নিপীড়নের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এটি বারবার উঠে এসেছে আবদুল কাদেরের বক্তব্যে যে বিগত শাসনামালে শেখ হাসিনার শাসনামলে কিভাবে শিবির ছাত্রলীগ হয়ে ছাত্রলীগের চেয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করেছে।
এই সাংবাদিক বলেন, ‘আব্দুল কাদের তার পোস্টে অনেকের নামই উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ একসময় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে থেকেছেন আবার কেউ এখন শিবিরের নেতা হিসেবে সক্রিয়। এদের কেউ কেউ গেস্ট রুমের কুখ্যাত নির্যাতক। আবার এখন শিবিরের সাংগঠনিক মিটিংয়ে নিজেকে প্রকাশ করে সদস্য হিসেবে কেউ নিজের নামের শেষে সাঈদী থাকার কারণে ছাত্রলীগের পদ না পেয়ে নাম পরিবর্তন করেন।
কিন্তু অবশেষে ফেরত যান নিজের পুরনো ঘরে, পুরনো নামে।
তিনি আরো বলেন, ‘এখানে কেবল ব্যক্তি নয়, গোটা সিস্টেমের একটা দায় আছে। যদি একটা রাজনৈতিক দল বা সংগঠন তার ভেতরে প্রবেশকারী এজেন্টদের চিনতে না পারে কিংবা কোনো সংগঠন বা দল যদি নিজের লোকদের অন্য দলের মধ্যে ভিড়িয়ে দেয়, কিংবা কেউ চিনেও তার দৌরাত্ম্যকে প্রশ্রয় দেয়। তাহলে তাকে কেবল প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র নয়, শিবিরের নৈতিকতা সংকট এবং ছাত্রলীগের নৈতিকতা সংকট তো ছিলই। এই যে একটা দলে অন্যরা ঢুকে পড়ছে। ঢুকে নানা রকমের অপকর্মে যুক্ত হচ্ছে। সেটা এক ধরনের সাংগঠনিক ব্যর্থতা। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সরকারের ব্যর্থতা বলা যেতে পারে।
জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে যারা নির্যাতনে লিপ্ত হয়েছেন তারা কেবল ছাত্রলীগকেই নয়। ছাত্ররাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছেন। আর শিবিরও এই কলঙ্কের দায়ভার এড়াতে পারে না। আরেক দিকে এই ইস্যু উঠে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জাতি এখনো আহত হয়ে আছে। গত বছরের সেই নির্মম জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিতে শিশুদের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর যে মিছিল তার বিচার আজও হয়নি। একের পর এক গ্যাজেট আসে লিস্ট হয় আবার বাতিল হয়। কানো নাম দুইবার আসে, কারো পরিচয় মেলে না। ঢাকার রায়ের বাজারের গণকবরে পড়ে থাকা নামহীন লাশগুলো যেন আমাদের শোকের চেয়েও বড় এক ব্যর্থতা চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।