বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক সুরক্ষা খাতে ধনী পরিবারের বেশি সুবিধাপ্রাপ্তি ও অব্যবস্থাপনার কারণে বৈষম্য বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা গড়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫০ বছর বয়সী আব্দুল লতিফ । নিজের চিকিৎসা এবং ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে শেষ করেছেন ১২ বছরের প্রবাস জীবনের সঞ্চয়। এনজিও ঋণ নিয়ে কেনা ভ্যানগাড়িতে এখন জীবিকা খোঁজেন তিনি। ইব্রাহিম বলেন, চলার মতো পরিবেশ নেই। আগে যে টাকা-পয়সা রুজি করেছি, ছেলে বিদেশে গিয়ে সেগুলো নষ্ট করে ফেলেছে।
পাশেই ব্যস্ত নূর শামসুন্নাহার , এখন চায়ের দোকান চালান। দুই বছর আগেও তার ছিল ভাতের হোটেল, ছিল সঞ্চয়। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের চাপ আর জীবনযুদ্ধের ব্যয় সামলাতে গিয়ে সব হারিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের হাতে টাকা-পয়সা নেই। চায়ের দোকানে বসলেও ৫০-১০০ টাকা খরচ হয়। লোকজন আসে না। দেশের পরিস্থিতি খারাপ। সরকান নাই।
স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনের এই বাস্তবতাই প্রতিফলিত হয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, দেশে প্রায় সোয়া ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। গত দুই বছরে ২০ লাখ মানুষের চাকরি গেছে এবং এ বছর আরও ৮ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নারী ও তরুণ বেশি।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যে হারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, নিম্নআয়ের শ্রমিকদের আয় সে হারে বাড়েনি। তাদের মজুরির ক্রয়ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে কমছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত চার বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। চলতি বছর এই সংখ্যা ২১ শতাংশ ছাড়াতে পারে। কর্মসংস্থানের সংকট, চাকরি হারানো, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও স্থবির মজুরি-এসবই দারিদ্র্য বৃদ্ধির মূল কারণ।
ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, প্রবৃদ্ধির সংখ্যায় যে একটা বড় ধরনের সমস্যা ছিল অতিরঞ্জিত করে দেখানো, এটার কোন উল্লেখই রিপোর্টে নাই। ইভেন তাদের রিপোর্টে যেটা ২০২২ এ বলা হয়েছিল। সেই বিষয়গুলো এখানে আনা হয়নি। এখানে এটা ধরেই নেয়া হয়েছে যে প্রবৃদ্ধির সংখ্যাটা ঠিক ছিল, আমাদের ধারণা যেখানে ৭ শতাংশ বলা হচ্ছিল, সেটা হয়তো চার বা তার নিচে ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা ধনী পরিবারগুলো বেশি পাচ্ছে। খাতে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে বৈষম্য কমছে না। এ অবস্থা দূর করতে দুর্নীতিমুক্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।