ফলো করুন, শেয়ার করুন…………
নেপালে সহিংস দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে উত্তেজনা বাড়ায় পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। শত শত বিক্ষোভকারী তার দপ্তরে প্রবেশ করার পর মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নেপালের সচিবালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিসহ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করলেও বিক্ষোভ চলছে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের মধ্যে সেনাবাহিনীসহ দেশটির প্রধান নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জরুরি রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে নেপালি সেনা, নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানরা, প্রধান সচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান ছাড়া শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আর কোনও পথ নেই।
এর আগে, বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল পার্লামেন্ট, সিংহ দরবার, সুপ্রিম কোর্ট, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় এবং কয়েকজন শীর্ষ নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা। নেপালের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন সরকারের পানি সরবরাহ বিষয়ক মন্ত্রী প্রদীপ যাদব। দেশটির কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী রাম নাথ অধিকারী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকও পদত্যাগপত্র জমা দেন।
নেপালের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।
ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) বা ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ‘জেনারেশন জেট’ বা জেন জি-র ডাকে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডুতে দেশের পার্লামেন্টের সামনে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেটি ঘিরে বিক্ষোভের শুরু হয়।