পথে-ঘাটে-বাজার-হাটে ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দিলেই গণধোলাই দেওয়া শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নতুনধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী।
শুক্রবার (৩ জুলাই) তোপখানা রোডস্থ বিজয় মিলনায়তনে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণধারায় তিনি এসব কথা বলেন।
মোমিন মেহেদী বলেন, ‘যে জুলাই যুদ্ধাপরাধীদের, সে জুলাই জনতার নয়। যে জুলাই মার্কিনি দাসত্ব চুক্তি করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অপমান করেছে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করেছে, যুদ্ধাপরাধী ও তাদেরকে সমর্থকগোষ্ঠীকে পুনর্বাসিত করেছে, হামের টিকা সংকট তৈরি করে শিশুহত্যা করেছে, সহস্রাধিক অন্যায়-অপরাধ-দুর্নীতির মধ্য দিয়ে লক্ষাধিক কোটি টাকা পাচার করেছে, সেই জুলাইকে ‘না’ বলার জন্য জনগণ তৈরি বলেই পথে-ঘাটে-বাজার-হাটে ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দিলেই গণধোলাই দেওয়া শুরু হয়েছে।
এমতাবস্থায় নতুনধারার সারাদেশে ৪৭ জেলা, ১০৪ উপজেলাসহ সব বিভাগীয় ও সাংগঠনিক কমিটির নেতৃবৃন্দকে সবসময় সক্রিয় থাকতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী-যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সমর্থকগোষ্ঠীকে প্রতিহত করার জন্য।’
এছাড়া নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাশেম মোল্লা, আফতাব মন্ডল, নয়ন বেপারী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নেতারা এসময় বলেন, ‘৩৬ জুলাই যে যুদ্ধাপরাধীদেরকে সংসদে নেওয়ার জন্য হয়েছে, আজ জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় স্বাধীনতা বিরোধী জোটের ৭৪ এমপি সংসদে গেছে ঠিকই, কিন্তু মার্কিন চুক্তি বাতিলের দাবিতে কোনো কথা বলছে না। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে দেশ বিরোধী মার্কিনি চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে সংসদ ঘেরাওসহ লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কেননা, বাণিজ্য চুক্তির প্রতিটি ধারা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।’
তারা আরও বলেন, ‘যে জুলাইয়ের কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এটিএম আজহারের মত মানুষ এমপি হয়েছে, যে জুলাই যুদ্ধাপরাধী-জামায়াত ইসলামকে পুনর্বাসিত করেছে, যে জুলাই ধর্ষণ-খুন-ছিনতাই-চুরি-ডাকাতি বাড়িয়েছে, সেই জুলাইকে ঘৃণা জানানো পুরো জাতির নৈতিক দায়িত্ব। নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি এই দায়িত্ব পালন করেছে ছাত্র-যুব-জনতার রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে। যে জুলাই আমাদেরকে দাসে পরিণত করেছে, ছাত্র সমাজকে শিক্ষা বিমুখ করে রাজনীতির নামে অপরাজনীতির পথে পরিচালিত করছে, মা- বোনেরা অনিরাপদ হয়েছে, ধর্মান্ধদের সংখ্যা বাড়িযেছে, ধর্মীয় সাইনবোর্ড ব্যবহারের মধ্য দিয়ে অধর্মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে, সেই জুলাইকে ‘না’ বলা আপনার আমার আমাদের ব্যক্তিগত, নৈতিক-সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় দায়িত্ব।’
এছাড়াও নেতারা বলেন, ‘আসুন জুলাইকে ‘না’ বলি; জুলাইকে ব্যবহার করে রাতারাতি যারা কোটি কোটি টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচার করেছে, উপদেষ্টা হয়েছে, এমপি হয়েছে, রাজনৈতিক দল করেছে, তাদেরকে বয়কট করি-প্রতিহত করি। যাতে করে আর কখনো কোনো প্রতিক্রিয়াশীল চক্র কোনো একটি অংশকে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে না পারে।’