• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে।। প্রধান মন্ত্রী হিসেবে নয় বিমসটেকের প্রধান হিসেবে দাওয়াত দিয়েছিল ভারত: রিজভী ঢাবি থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ ও বঙ্গবন্ধুর ছবি পুনঃস্থাপনের দাবিতে মিছিল প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের আইনি বৈধতা নেই: হাইকোর্ট ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত হলো ঐতিহাসিক ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে তিন নদীর পানি, তলিয়েছে বহু গ্রাম কর পরিশোধ মামলার রায়, ইউনূসের সব অপকর্মের বিচারের পথ খুলে দিল? মা খুব কষ্ট হচ্ছে, ছাত্রের আকুতি আমাকে নিয়ে যাও’।। মাদ্রাসায় তিন মাস ধরে নিয়মিত শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার ছাত্র একদিনেই সারাদেশে ৫০ টিরও বেশি স্থানে আ’লীগে বিক্ষোভ মিছিল ব্রিকস সম্মেলন: দুই যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে ভারতে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা

ব্রিকস সম্মেলন: দুই যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে ভারতে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা

বিজয় একাত্তর ডেক্স ★ / ৫২ Time View
Update : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দুই যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই ভারতে বসছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন রাশিয়া, চীন, ইরানসহ ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতারা। যুদ্ধ নিয়ে জোটের সদস্যদের মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় এই সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, নয়াদিল্লির বিভিন্ন সড়কে শোভা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানানোর পোস্টার। ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখে রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। পাশাপাশি যান চলাচলেও আরোপ করা হয়েছে নানা বিধিনিষেধ। ১১ সদস্যের এই জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকস সদস্যদের মতপার্থক্য এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করার কথা রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্ব পেতে পারে।

এদিকে ছয় বছর পর ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পর এবারই প্রথম ভারত সফরে আসছেন শি। দুই দিনের সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে তার বৈঠকও হতে পারে।

২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। পশ্চিমা শক্তির প্রভাবাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাওয়া বড় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে জোটটি আরও বড় হয়েছে। বর্তমানে এতে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তা নিয়ে এই তিন দেশের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন।

বর্তমানে ব্রিকসের ১১ সদস্য হলো—ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনে নেতারা ব্রিকসের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন।

নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেছেন, দুই দিনের সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে বলে তিনি আশাবাদী। এসব আলোচনার লক্ষ্য থাকবে বৈশ্বিক কল্যাণ। তিনি বলেন, ‘শুধু ভালো মানুষের সঙ্গে কথা বলা উচিত, ভালো মানুষের সঙ্গে মিলেই কাজ করা উচিত। ভালো মানুষের সঙ্গেই বিতর্ক ও বন্ধুত্ব করা উচিত, অসৎ মানুষের সঙ্গে কোনোভাবেই নয়।

পুতিন, শি জিনপিং ও পেজেশকিয়ান ছাড়াও আরও ৯টি দেশের নেতারা এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন- দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরিবর্তে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পরিবর্তে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি।

ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখে দিল্লিতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। সপ্তাহান্তে ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলন ঘিরে রাজধানীজুড়ে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। একইসঙ্গে সাময়িকভাবে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

শনিবার শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর ২০০ কোম্পানি এবং ৫০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দিল্লিজুড়ে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, পুরো শহর বন্ধ করে দেয়া হবে না। তবে ভিভিআইপি বহর চলাচলের সময় কিছু সড়কে সাময়িকভাবে যান থামানো, পথ পরিবর্তন ও চলাচলে বিধিনিষেধ থাকতে পারে।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd