• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তরুণের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন স্বজনরা, বিএনপি নেতা কর্মীদের বেধড়ক পিটনিতে তৌফিকের মৃত্যু হয় বিক্ষোভে বাতিল শ্রমমন্ত্রীর বিদেশ সফর, মন্ত্রীদের ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা তত্বাবধায়ক কে হবেন তা জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অপরাধী শিক্ষকদের বাঁচাতে সত্য আড়াল করলে মাদ্রাসার চূড়ান্ত ক্ষতি হবে: শায়খ আহমাদুল্লাহ টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ক্রিপ্টো লেনদেনে ১৩তম স্থানে বাংলাদেশ ভারতকে শেখ হাসিনার ধন্যবাদ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি: দেশের প্রায় ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত

সংঘাত চাই না, গণভবনের দরজা খোলা।।৩৪ জুলাইয়ে শেখ হাসিনার সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান ছাত্রনেতাদের

এস এম আলী খাঁন ★ / ২৬২ Time View
Update : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে টানা সহিংসতা, প্রাণহানি ও দমন-পীড়নের মধ্যেই আন্দোলন থামাতে সংলাপের উদ্যোগ নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  জননেত্রী শেখ হাসিনা। সকালে গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই এবং তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।’

কিন্তু সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশ থেকে তারা ঘোষণা করেন ‘এক দফা’ শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং সরকারের পতনের দাবি।

সেদিন বিকেল ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফা দাবির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। দফাটি হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদের বিলোপ।

এক দফা ঘোষণার মাধ্যমে আন্দোলনের লক্ষ্য কোটা সংস্কারের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেয়। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের বিচারও দাবি করেন আন্দোলনের নেতারা।

সেদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমাবেশে যোগ দেন। ‘দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সমাবেশ থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ দফা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে কর ও বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান ছিল।

এদিকে একই দিনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দাবি করেন, আন্দোলন আর কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে।

৩ আগস্ট রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

তবে দিনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে ওঠে গণভবনের সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঘোষিত ‘এক দফা’। সেই ঘোষণাই পরবর্তী আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয় এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd