• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তরুণের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন স্বজনরা, বিএনপি নেতা কর্মীদের বেধড়ক পিটনিতে তৌফিকের মৃত্যু হয় বিক্ষোভে বাতিল শ্রমমন্ত্রীর বিদেশ সফর, মন্ত্রীদের ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা তত্বাবধায়ক কে হবেন তা জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অপরাধী শিক্ষকদের বাঁচাতে সত্য আড়াল করলে মাদ্রাসার চূড়ান্ত ক্ষতি হবে: শায়খ আহমাদুল্লাহ টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ক্রিপ্টো লেনদেনে ১৩তম স্থানে বাংলাদেশ ভারতকে শেখ হাসিনার ধন্যবাদ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি: দেশের প্রায় ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত

হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ১১ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ

ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতা ★ / ১৬৭ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তর মৃত্যুর ঘটনায় ডিবির ওসিসহ অভিযানে অংশ নেওয়া ১১ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে।অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে।

জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশপত্র পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে ডিবির ওসিসহ ১১ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, “ওই অভিযানে অংশ নেওয়া সবাই কোনো না কোনোভাবে অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে সবারই কমবেশি ভূমিকা আছে। বিভাগীয় তদন্তের পর কার কতটুকু দায়, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।”

২০ জুন বিকালে মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্ধারদিয়া এলাকায় বাড়ির সামনে থেকে ইশতিয়াককে আটক করে ডিবি পুলিশ। পর দিন সকালে ডিবি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) গোন্ধারদিয়া এলাকার মৃত এসকেন হায়দারের ছেলে। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি ফরিদপুর চিনিকলের মৌসুমি শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতেন।

ইশতিয়াককে আটকের ঘটনায় ডিবির এসআই আহাদুজ্জামান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০ জুন দিবাগত রাত ২টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ইশতিয়াকের বাড়ির সামনে গেলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে ধরে দুজন সাক্ষীর সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইশতিয়াক তার কাছে গাঁজা আছে বলে স্বীকার করে এবং নিজ হাতে প্যান্টের ডান পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় গাঁজা উদ্ধার করে দেন।

তবে ওই ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায় ঘটনাটি রাতে নয়, দিনের বেলায় ঘটেছে। ওই সময় ইশতিয়াক প্যান্ট নয়, লুঙ্গি পরিহিত ছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, ডিবির সদস্যরা ইশতিয়াকের মাথায় আঘাত করে শরীর তল্লাশি করছেন। তল্লাশির এক পযায়ে যেখানে সার্চ করা হয় তার থেকে কয়েক হাত দূরে বামদিকে “এই যে এক টোপলা”, “এই যে” বলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন।

মামলার দুই সাক্ষী মো. আলমগীর হোসেন ও বিনয় সাহার বিষয়ে তদন্তে অসংগতি পাওয়া গেছে। তারা তদন্ত কমিটির কাছে জানান, ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার অভিযোগ করেন, ২০ জুন ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ইশতিয়াককে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার আত্মীয় সোহেল মুন্সীর সঙ্গে ডিবি পুলিশের কথা হয়। পরে ডিবি জানায়, এ ছেলে কলেজে পড়ে, ছাত্রলীগ করে, আজ তাকে ছাড়া হবে না, কাল সকালে এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুর আসেন। সকালে টাকা নিয়ে ফরিদপুরে গিয়ে তিনি ছেলের লাশ পান।

পরে তদন্ত কমিটির কাছেও একই বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান খাদিজা আক্তার।

এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. শামসুল আজম এবং জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চের ওসি মোশাররফ হোসেন।

ঘটনার সময় ফরিদপুর ডিবির ওসি ছিলেন মো. আলমগীর হোসেন। অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের মধ্যে ছিলেন এসআই মো. আহাদুজ্জামান ও মোতাহার আলী, এএসআই মো. হাজিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আবু সুফিয়ান, রাকিব মোল্লা, মনিরুজ্জামান, মো. রাকিবুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন মিয়া, চম্পা হালদার এবং গাড়িচালক মো. সবুজ মোল্লা।

ঘটনার পর ডিবির ওসিসহ ১১ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd