• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তরুণের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন স্বজনরা, বিএনপি নেতা কর্মীদের বেধড়ক পিটনিতে তৌফিকের মৃত্যু হয় বিক্ষোভে বাতিল শ্রমমন্ত্রীর বিদেশ সফর, মন্ত্রীদের ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা তত্বাবধায়ক কে হবেন তা জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অপরাধী শিক্ষকদের বাঁচাতে সত্য আড়াল করলে মাদ্রাসার চূড়ান্ত ক্ষতি হবে: শায়খ আহমাদুল্লাহ টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ক্রিপ্টো লেনদেনে ১৩তম স্থানে বাংলাদেশ ভারতকে শেখ হাসিনার ধন্যবাদ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি: দেশের প্রায় ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত

কুরবানির হাটে মন্দা, দেশের অর্থনীতির করুণ চিত্র,আর্থিক সক্ষমতা হারিয়েছে মানুষ

এম আকবর আলী ★ / ৪৩৪ Time View
Update : রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫

কুরবানির হাটে মন্দা, দেশের অর্থনীতির করুণ চিত্র,আর্থিক সক্ষমতা হারিয়েছে মানুষ।
কুরবানি শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, এটি ছিল একসময় পারিবারিক আনন্দ, সামাজিক উৎসব ও আত্মত্যাগের প্রতীক। কিন্তু ২০২৫ সালের চিত্র ভিন্ন। এ যেন কুরবানির হাট নয়, বরং একটি নীরব প্রতিবাদের চিত্র—একটি বিপর্যস্ত জাতির মুখচ্ছবি।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী কিংবা খুলনা দেশের যেকোনো কুরবানির হাটে গেলে দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। বিক্রেতারা অপেক্ষা করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, অথচ গরু দেখতে আসা লোকের সংখ্যা হাতে গোনা। অধিকাংশ মানুষ কেবল তাকিয়ে চলে যাচ্ছে দরদাম করাও যেন তাদের সাহসে কুলোচ্ছে না। গরুর চেয়ে হাটে মানুষের মুখের অশান্তি বেশি স্পষ্ট।

এর মূল কারণ দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি। ড. ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে নেমে গেছে। আয় নেই, কাজ নেই, মূল্যবৃদ্ধির তোড়াজোড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও এখন বিলাসিতা মনে হয়। এক সময় যারা দুই-তিনটি পশু কোরবানি দিতেন, এবার তারা কেবল তাকিয়ে আছেন, বুক চাপড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন।

সামর্থ্যহীনতার চাপ এতটাই যে, অনেক পরিবার তাদের ছেলেমেয়েদের মুখে পুরো একবেলা খাবার তুলে দিতে পারছেন না। কর্মহীনতা, মুদ্রাস্ফীতি আর দুঃশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষ আজ ধর্মীয় কর্তব্য পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এতে শুধু ঈদের আনন্দই হারিয়ে যায়নি, হারিয়েছে আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা আর সামাজিক সাম্যবোধ।

কুরবানির হাটে এখন আর গরু কেনাবেচা নয়—মানুষ যেন বিক্রি করছে তাদের যন্ত্রণা, আর ফেরত পাচ্ছে একরাশ হতাশা। মুখে কারও হাসি নেই, চোখে শুধুই চিন্তার ছাপ। দোকানি থেকে দিনমজুর সবাই কেমন যেন অসহায় হয়ে পড়েছে, এক অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে শূন্য দৃষ্টিতে পুরো জাতি।

ড. ইউনুসের রাজনৈতিক খেলায় আজ দেশের কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের রপ্তানি, কৃষি ও ছোট ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই সংকট যদি চলতে থাকে, তাহলে আগামী বছর ঈদের নামেও আর কোনো উৎসব থাকবে না। থাকবে শুধু দীর্ঘশ্বাস আর ক্ষুধার্ত মুখ।

এই ভয়াবহ দুঃসময়ে দরকার একটি সাহসী সিদ্ধান্ত, একটি কার্যকর পুনর্গঠন পরিকল্পনা। জনগণের জন্য ন্যায্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলে শুধু কুরবানির হাট নয়, পুরো দেশের বাজারই হয়ে উঠবে বন্ধ দোকানের শহর।

এই লেখায় কেবল একটি কুরবানির হাটের বিবরণ নয় এটি এক অসহায় জাতির আর্তনাদ, যা এখন শোনা উচিত, বোঝা উচিত এবং যার প্রতিকারে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।⁩


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd