• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তরুণের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন স্বজনরা, বিএনপি নেতা কর্মীদের বেধড়ক পিটনিতে তৌফিকের মৃত্যু হয় বিক্ষোভে বাতিল শ্রমমন্ত্রীর বিদেশ সফর, মন্ত্রীদের ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা তত্বাবধায়ক কে হবেন তা জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অপরাধী শিক্ষকদের বাঁচাতে সত্য আড়াল করলে মাদ্রাসার চূড়ান্ত ক্ষতি হবে: শায়খ আহমাদুল্লাহ টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ক্রিপ্টো লেনদেনে ১৩তম স্থানে বাংলাদেশ ভারতকে শেখ হাসিনার ধন্যবাদ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি: দেশের প্রায় ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত

বাংলাদেশের সংকট ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছালে সেনা হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত ওয়াকারের

এস এম আলী খাঁন ★ / ১২০ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘সংকটজনক পর্যায়ে’ পৌঁছালে সেনাবাহিনীকে ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত ত্রৈমাসিক দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ইঙ্গিত দেন। ‘সংকটজনক পরিস্থিতি’ তৈরি হলে দায়িত্ব পালনের জন্য সেনাসদস্যদের পূর্ণ প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্যও সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান সেনাপ্রধান।

দরবারে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জেনারেল ওয়াকার। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামরিক কর্মকর্তাদের বিচার নিয়েও তিনি ‘বিব্রত’ বলে মন্তব্য করেন।

এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুত থাকতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অপরাধ দমনে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে বিশেষ যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সরকার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।

তবে পরদিন সেনাবাহিনীর দরবারে এ ধরনের কোনো অভিযানের বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও জানান, ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ পরিচালনার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ শুরু হয়েছিল। ওই অভিযান ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮৪ দিন চলেছিল।

তৎকালীন অভিযানে প্রায় ৪০ হাজার সদস্যের যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার, দুই হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং প্রায় ৩০ হাজার রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছিল।

অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনীর হেফাজতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কিছু হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৬৫ বলা হয়েছে। এসব মৃত্যুর বেশির ভাগের কারণ হিসেবে ‘হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়া’ উল্লেখ করা হলেও তখন হেফাজতে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও ওঠে।

অভিযানে অংশ নেওয়া বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ঠেকাতে পরে একটি দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে হাইকোর্ট ওই আইন বাতিল করে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন করে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানোর বিষয়ে সরকারের অনুরোধে তিন বাহিনীর প্রধানরা ইতিবাচক সাড়া দেননি। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এমন অভিযানে অংশ নিতে অনাগ্রহী।

এদিকে মাঠপর্যায়ে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে দীর্ঘদিন ধরে সেনাসদস্য মোতায়েন থাকার বিষয়েও সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন জিওসি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া এবং আগের ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা মনে করছেন যৌথ বাহিনীর সম্ভাব্য অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কার কথা তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে।

তবে এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসংক্রান্ত বক্তব্য প্রতিবেদনের নিজস্ব বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কথিত ধারণার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। এগুলোকে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সেনাবাহিনীর ঘোষিত অবস্থান হিসেবে দেখা হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমানও বলেছেন, অপরাধে জড়িত কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলেও ছাড় পাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd