শেয়ার করুন…………………
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযান এবং দেশে পরিকল্পিতভাবে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডালটন সৌভাত হীরা নামে এক ব্যক্তির সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তার পোস্টে গোপালগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়ংকর’ বলে আখ্যা দিয়ে সেনাবাহিনী এবং বেসামরিক প্রশাসনকে নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে।
ডালটন সৌভাত হীরার লেখা অনুযায়ী, গোপালগঞ্জে সম্প্রতি ঘটা সহিংসতার দায়ভার নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। তার পোস্টে তিনি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন:
১. গুলিবর্ষণ ও দায় চাপানোর চেষ্টা:
পোস্টে দাবি করা হয়েছে, গোপালগঞ্জে সরাসরি সেনাবাহিনী গুলিবর্ষণ করেছে। তবে এই ঘটনার দায়ভার বেসামরিক প্রশাসনের ওপর চাপানোর জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর নির্দিষ্ট কাগজে (সিসিতে) স্বাক্ষর করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দায় সেনাবাহিনীর বদলে সিভিল প্রশাসনের ওপর বর্তানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
২. টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ায় অভিযান:
হীরার বক্তব্য অনুযায়ী, টুঙ্গিপাড়ায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে, যার লক্ষ্য এলাকাটিকে ‘পুরুষশূন্য’ করা। তিনি আরও দাবি করেন, একই ধরনের অভিযান আগামীকাল কোটালীপাড়ায়ও পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই সব কিছুই সেনাবাহিনীর সহায়তায় ঘটছে।
৩. পরিকল্পিত আক্রমণের আশঙ্কা:
পোস্টটিতে আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর পাহারায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী (পোস্টে ‘এনসিপি’ উল্লেখিত) টুঙ্গিপাড়ায় আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। এই আক্রমণের জন্য গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসা এবং পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর থেকে জামাত-শিবিরের কর্মীদের জড়ো করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৪. গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা:
ডালটন সৌভাত হীরা তার লেখার শেষে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “দেশকে পরিকল্পিত ভাবে এভাবে গৃহ যুদ্ধের দিকে ঠেলা দেয়ার দায় সেনাবাহিনীকেই নিতে হবে।” তবে তিনি এও বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বহু অফিসার রয়েছেন, যারা শেষ পর্যন্ত রুখে দাঁড়াতে পারেন। তার মতে, সেই পরিস্থিতিও দেশে আরেকটি গৃহযুদ্ধের জন্ম দিতে পারে।
ডালটন সৌভাত হীরার এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও তার এই দাবিগুলোর কোনোটিরই প্রাতিষ্ঠানিক বা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে গোপালগঞ্জের থমথমে পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা তৈরি হয়ে।