• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ধর্ষণ ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, আদালতে বিধবা গ্যাস সরবরাহ তলানিতে, বন্ধের মুখে বহু কারখানা দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুট এক বছরেই দুর্নীতি ২,৭১১ কোটি টাকার এনসিটিবি রাষ্ট্রপতি পদে না থাকলেও যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু: তদন্তে মিলল ভয়াবহ মাদক গ্রহণের প্রমাণ পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র ঝুঁকিতে পড়বে : ডব্লিউএফপি শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: রয়টার্স রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ , দৈনিক বিজয় একাত্তর নিশ্চিত তিনি যাচ্ছেন, সময়ও কম আদালত চলাকালে নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক !

চাঁপাইনবাবগঞ্জে উজানের ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ১১ হাজার পরিবার

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ঘুরে এসে আকবর আলী ★ / ৪৭১ Time View
Update : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫

শেয়ার করুন……………….
টানা বৃষ্টি ও ফারাক্কার ১০৯টি গেইট খুলে দেয়ায় পদ্মা নদী হয়ে ভারত থেকে আসা অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করেছে বসতবাড়ির আশপাশে। এতে প্লাবিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর, শিবগঞ্জ উপজেলা পাঁকা, দুর্লভপুর, মনাকষা ও উজিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটারজুড়ে পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ১১ হাজার পরিবার। জলাবদ্ধতার কারনে বন্ধ হয়েছে কয়েকটি বিদ্যালয়। ভেঙে পড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। লোকালয়েও যাতায়াত করতে ব্যবহার করতে হচ্ছে নৌকার।

প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, পদ্মা নদীতে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অতিরিক্ত পানি আসায় আশেপাশের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। বাধ্য হয়েই উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা। নদী ভাঙনের পর আকষ্মিক প্লাবিত হওয়ায় চরম বিপাকে স্থানীয়রা। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় গরু-ছাগল ও গবাদিপশু নিয়েও চিন্তায় চরাঞ্চল ও পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা। পানির নিয়ে তলিয়ে গেছে অন্তত দেড় হাজার বিঘা ধান, আখ ও চরাঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল মাসকালাই।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর পানি উপচে নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর ও চরের বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদী তীরবর্তী মানুষ।

পাকা ইউনিয়নের দশরশিয়া এলাকার বাসিন্দা শামীম আলী জানান, কয়েকদিন ধরেই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এলাকার নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমিগুলো ডুবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া এখানকার অনেক বাড়ির চারিদিকেই পানি আর পানি। শুধু বাড়ির জায়গাটুকু জেগে আছে।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদ্দাম আলী জানান, পানি বাড়ায় নিমাঞ্চল যেমন ডুবছে, তেমনি নদী তীরবর্তী মানুষ ভাঙন আতঙ্কেও দিন পার করছে। পানি বাড়ায় তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি দুর্গত এলাকার মানুষদের এই মুহূর্তে ত্রাণেরও দরকার বলে তারা জানিয়েছেন।

সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন ও আজম আলী জানান, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যবহৃত হচ্ছে। যেভাবে গত কয়েকদিন ধরে পানি বাড়ছে, এমন ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের কিছু বাড়িঘর ডুবে যাবে। কিছু কিছু এলাকায় চরের মধ্যে থাকা বাড়িগুলো ডুবেও গেছে। এমন অবস্থায় পানিবন্দি পরিবারগুলোতে ত্রাণ সহায়তা দরকার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী জানান, শিবগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোর ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। যার কারণে ওইসব বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা প্রস্তুতের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তালিকা পেলে যাচাই-বাছাই করে তাদের দ্রুতই ত্রাণের আওতায় আনা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, জেলার সব নদীর পানিই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তা প্রায় ছুঁই ছুঁই অবস্থায় রয়েছে। সামনে আরও দুই দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বর্তমানে ভাঙন আতঙ্ক কম, তবে পানি নামা শুরু হলে ভাঙন দেখা দিতে পারে। তিনি আরও জানান, পানি বাড়ায় নদীপারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কিছুটা বিপর্যস্ত হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী বলেন, পদ্মা নদী তীরবর্তী পানিবন্দি বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিচ্ছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। গত সোমবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০০ পরিবারের মাঝে ১০ টন চাল, শুকনো খাবার, ঢেউটিন ও পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব পানিবন্দি পরিবার ত্রাণ সহায়তা পাবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তালিকা প্রস্তুত চলছে। ইতোমধ্যে ত্রাণের বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং দ্রুতই তা বিতরণ করা হবে। এছাড়াও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার পদ্মা নদীতে পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৪ মিটার। বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মা নদীর পানি।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd