শেয়ার করুন…………………
দিনাজপুরের হিলিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত ২ চিকিসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুর ২ টায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মারধরের শিকার হন দুই চিকিৎসক।
এ ঘটনার প্রতিবাদের এক ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা। পরে উপজেলা বিএনপি সভাপতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি মিমাংসা করেন।
মারধরের শিকার চিকিৎসকরা হলেন- মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মশিউর রহমান ও ইন্টার্নি স্বাস্থ্যসহকারী ফয়সাল হোসেন।
ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান জানান, উপজেলার মাঠপাড়া মহল্লার ফারুক হোসেন নামের এক ব্যক্তি কিছুদিন পূর্বে মারামারির ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। কিন্তু তিনি ছাড়পত্র নিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পরিচয় দেয়া আল মামুন নামের এক ব্যক্তি ১০/১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে সাপালের জরুরি বিভাগে মশিউর ও স্বাস্থ্যসহকারী ফয়সাল হোসেনের ওপর হামলা চালান।
মারধরের শিকার অপর ফয়সাল হোসেন বলেন, ঘটনার সময় আমি ও স্যার (ডা. মশিউর রহমান) হাপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিলাম। এসময় ১০/১২ জনের একটি দল ডা. মশিউর রহমানকে মারধর করতে করতে বাহিরে নিয়ে যায়। এসময় তাদের বাধা দিলে আমাকেও মারধর করা হয়।
অভিযুক্ত আল মামুন হাকিমপুর (হিলি) পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জানিয়ে উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস রহমান জানান, অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি জানতে পেরে তিনি হাসপাতালে যান। এরপর অভিযুক্ত আল মামুন তার উপস্থিতিতে ওই চিকিৎসকদের কাছে ক্ষমা চান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো: আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি ওই সময় জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মিটিংয়ে ছিলেন। ঘটনা সেখান থেকে মোবাইল ফোনে জানতে পেরেছেন। সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে এসে বিস্তারিত জেনেছেন। যেটা ঘটেছে সেটা নিন্দনীয়, একজন কর্তব্যরত চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: আসিফ ফেরদৌস বলেন, ইতোমধ্যে ঘটনা সম্পর্কে তাকে জানানো হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
হাকিমপুর থানার ওসি (তদন্ত) এসএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধরের কথা লোকমুখে শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।