হাইকোর্টের আদেশে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেয়েছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের ছয় ইউপি চেয়ারম্যান।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানদের দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর প্যানেল চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) থেকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষে অনেকে অফিস শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের ৭০০৩/২০২৫নং রিট পিটিশনের নির্দেশনা, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় জেলা সরকারি আইন কর্মকর্তার (জিপি) আইনগত মতামতের প্রেক্ষিতে তাদের নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
প্রায় দুই বছর পর দায়িত্ব ফিরে পাওয়া ছয় চেয়ারম্যান হলেন, বাল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাচ্চু মিয়া, চালা ইউনিয়নের কাজী আব্দুল মজিদ, রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন, হারুকান্দি ইউনিয়নের শেখ মোশারফ হোসেন, ধুলশুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জায়েদ খান ও বলড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোসলেম উদ্দিন খান কুন্নু।
দায়িত্ব ফিরে পাওয়া প্রসঙ্গে বাল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাচ্চু মিয়া জানান, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক আমি আবার দায়িত্ব ফিরে পেয়েছি। ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে মামলা জটিলতায় কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রিট করি। হাইকোর্টের নির্দেশেই আবার আমাদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এখন অফিসিয়ালি প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
চালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদ জানান, প্রায় দুই বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মহামান্য হাইকোর্টের আমাদের ছয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে হয়তো দায়িত্ব বুঝে পাবো।
ধুলশুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জায়েদ খান জানান, প্রায় দুই বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টের নির্দেশে বুধবার দায়িত্ব বুঝে পেয়েছি এবং পরিষদের কার্যক্রম শুরু করেছি।
হরিরামপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিজা বীসরাত হোসেন বলেন, হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ছয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর মামলা জটিলতায় এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।