শেয়ার করুন এবং ফলো করুন……………..
রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নান। তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায়। তবে ঢাকায় তার গ্রেপ্তারের খবরে হতবাক হয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর (ঢাকা মেট্রো-ল-৫৪-৬৩৭৫) শনাক্ত করা হয়। পরে বিআরটিএর মাধ্যমে যাচাই করে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে আব্দুল হান্নানের নাম পাওয়া যায়।
রবিবার দুপুরে হান্নানের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, প্রায় চল্লিশ বছর আগে তার বাবার সঙ্গে তার মায়ের তালাক হয়। এরপর থেকেই সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা এলাকার মধ্যপাড়ায় নানার বাড়িতে ছোট ভাই সোহেলকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন তার মা ফুরকান। ফুরকান বেগম এলাকায় কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন। হান্নান ও সোহেল প্রথমে এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরে ঢাকায় গিয়ে কন্ট্রাক্টরের কাজ শুরু করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন। মাঝেমধ্যে কিংবা দুই ঈদে তিনি বাড়িতে আসতেন।
কিছুদিন আগে মায়ের চোখের অপারেশনের জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যান, এরপর থেকে হান্নানের মা-ও ঢাকায় বসবাস করছেন।
হান্নানের মামি শওকত আরা জানান, হান্নানের মাকে অনেক আগেই তার বাবা তালাক দিয়েছিল। পরে ছোট ছোট ছেলে নিয়ে এলে আমরাই মানুষ করেছি। সে একটি মোটরসাইকেল নিয়েছিল এবং পরে তা বিক্রি করে দেয়। কিন্তু মোটরসাইকেলের নাম কাটানো হয়নি। এ কারণেই ছেলেকে ধরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
এলাকার তাজেমুল নামে একজন বলেন, “এলাকায় হান্নান খুবই ভালো ছেলে। কোনো কাইজ্জা-ফ্যাসাদের (ঝগড়া) সঙ্গে সে যুক্ত নয় এবং তার মামারাও ভালো মানুষ। পরে আমরা শুনছি, সে নাকি ধরা পড়েছে।”
বাগডাঙ্গা সুন্দরপুর ইসলামিয়া হাফেজিয়া ও নূরানি মাদ্রাসার শিক্ষক গোলাম আরিফ বলেন, “আব্দুল হান্নান নিরীহ ছেলে। সে কোনো প্রকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, “হান্নান ১০-১৫ বছর আগেই ঢাকায় থাকতে শুরু করে। ছেলেটার কোনো দোষ আমরা দেখতে পাই না।”
তিনি আরও বলেন, “এখন যে ঘটনাটি শুনছি, তা শুনে আমরা রীতিমতো হতবাক।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) একরামুল হক বলেন, “আমরা বিষয়টি শুনেছি। তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”
https://shorturl.fm/HUXW1