শেয়ার এবং ফলো করুন…………
নড়াইল সদর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নেয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ট্রাকচাপায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তার সহকর্মী জিহাদুলকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নড়াইলে কয়েকদিন ধরেই তেলের তীব্র সংকট চলছে। এই সংকটের কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। এরই মধ্যে শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে আনুমানিক রাত ২টার দিকে নড়াইল সদরের তানভীর ফিলিং স্টেশনে এক ট্রাকচালক তেল নিতে এসে লাইনে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, সিরিয়াল অনুযায়ী তেল দেয়া হবে। কিন্তু অপেক্ষা না করে জোরপূর্বক তেল নেয়ার চেষ্টা করলে ম্যানেজার নাহিদের সঙ্গে ওই চালকের বাকবিতণ্ডা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে ট্রাকচালক প্রকাশ্যে হুমকি দেন যে তাকে তেল না দিলে এর পরিণতি খারাপ হবে। এর কিছুক্ষণ পর, যখন নাহিদ ও তার সহকর্মী জিহাদুল ফিলিং স্টেশন থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন, তখন অভিযুক্ত ট্রাকচালক তাদের পিছু নেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ বিকট শব্দ হয় এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নাহিদ ও জিহাদুল রাস্তায় পড়ে আছেন। ট্রাকচালক তাদের ওপর ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন। জিহাদুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, দুর্ঘটনায় তার পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিং স্টেশন মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, তেলের সরবরাহ ঘাটতির কারণে প্রতিনিয়তই এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, যা এখন সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তারা সংকটে পড়েছেন। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা থেকে প্রতিনিয়ত বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ এই ঘটনায় একজন ব্যবস্থাপক প্রাণ হারানোয় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
নিহত নাহিদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুটি ফিলিং স্টেশন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি মালিকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেও জানা গেছে। স্থানীয়রা তাকে শান্ত স্বভাবের ও ভদ্র মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার এমন নির্মম মৃত্যুকে কেউই মেনে নিতে পারছেন না।
এদিকে ঘটনার পর এখনো অভিযুক্ত ট্রাকচালক ও ট্রাকটিকে শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।